কালচারাল ইয়ার্ড ডেস্ক:
বলিউডে বাংলাদেশের কোনো অভিনেতাকে কেন্দ্রীয় চরিত্রে দেখা—এমন উদাহরণ হাতে গোনা। দীর্ঘদিন ধরেই সেই জায়গাটি ছিল প্রায় অপ্রবেশযোগ্য। নানা আলোচনা, প্রত্যাশা আর অপেক্ষার পর অবশেষে সেই নীরব দেয়াল ভাঙলেন আরেফিন শুভ।
বাংলাদেশের জনপ্রিয় এই অভিনেতা প্রথমবারের মতো বলিউড প্রজেক্টে লিড চরিত্রে হাজির হচ্ছেন। সনি লিভের বহুল প্রতীক্ষিত ওয়েব সিরিজ ‘জ্যাজ সিটি’-তে শুভ অভিনয় করছেন গল্পের প্রাণকেন্দ্রীয় চরিত্র জিমি রয় হিসেবে।
১৬ ডিসেম্বর মঙ্গলবার প্রকাশিত টিজারের মধ্য দিয়ে সিরিজটির আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দেয় সনি লিভ। টিজারের প্রতিটি ফ্রেমেই স্পষ্ট—গল্পের কেন্দ্রবিন্দু জিমি রয়, আর সেই চরিত্রের চারপাশেই আবর্তিত হচ্ছে পুরো ‘জ্যাজ সিটি’।
টিজারে আরেফিন শুভকে দেখা গেছে একাধিক ভিন্ন লুকে। কখনো ধূসর রঙের স্লিম কাট স্যুটে সংযত ও রহস্যময়, কখনো আবার সাদা ঝকঝকে স্যুট পরে নাচের তালে উজ্জ্বল। রেট্রো চুলের স্টাইল আর পোশাকের মাধ্যমে স্পষ্টভাবে ফুটে উঠেছে সত্তরের দশকের নান্দনিকতা, যা সিরিজটির সময়কালকেও দৃঢ়ভাবে প্রতিষ্ঠা করে।
নিজের চরিত্র ও সিরিজের আবহ নিয়ে আরিফিন শুভ বলেন,
“জ্যাজ সিটি একটি বহুমাত্রিক গল্প। এখানে শুধু সংলাপ নয়, সংগীতও গল্প বলে। সংলাপ, সংগীত আর নীরবতার সমন্বয়েই দর্শক পুরো আবহ অনুভব করবেন।”
এই সিরিজে অভিনয়ের জন্য শুভকে কাজ করতে হয়েছে চারটি ভাষায়—বাংলা, হিন্দি, উর্দু ও ইংরেজি। একজন বাংলাদেশি অভিনেতার জন্য এমন ভাষাগত পরিসর নিজেই একটি বড় মাইলফলক।
টিজার ইঙ্গিত দেয়, ‘জ্যাজ সিটি’ নির্মিত হয়েছে বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধ পরবর্তী সময় ও সত্তরের দশকের সামাজিক-রাজনৈতিক পটভূমিতে। সেই সময়ের টানাপোড়েন, পরিবর্তনের ঢেউ আর মানুষের ব্যক্তিগত ও সমষ্টিগত সংগ্রামের গল্প উঠে এসেছে সিরিজটিতে। প্রতিটি দৃশ্যেই যেন ইতিহাসের ছোঁয়া—দর্শককে নিয়ে যায় কয়েক দশক পেছনে।
সিরিজটির পরিচালনার পাশাপাশি গল্প ও চিত্রনাট্য করেছেন সৌমিক সেন, যিনি এর আগে আলোচিত সিরিজ ‘জুবিলি’-র সহ-স্রষ্টা হিসেবে বলিউডে প্রশংসা কুড়িয়েছেন। আরিফিন শুভর বিপরীতে অভিনয় করেছেন সৌরসেনী মিত্র। পাশাপাশি বলিউড ও টলিউডের আরও কয়েকজন পরিচিত মুখ সিরিজটিতে রয়েছেন।
সনি লিভ জানিয়েছে, ২০২৬ সালের ৬ ফেব্রুয়ারি হিন্দি, বাংলা ও ইংরেজি—এই তিন ভাষায় মুক্তি পাবে ‘জ্যাজ সিটি’। বলিউডে কেন্দ্রীয় চরিত্রে আরেফিন শুভর এই যাত্রা শুধু ব্যক্তিগত সাফল্য নয়, বরং বাংলাদেশের অভিনয়শিল্পীদের জন্যও এক নতুন সম্ভাবনার দরজা খুলে দিচ্ছে।