‘আমাদের সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণ করতে হবে এবং ভোট দিতে হবে। নইলে আমরা সংগীতশিল্পীরা বিপদে পড়ব। দেখুন ওরা ছায়ানটের কী অবস্থা করেছে! আমাদের পাল্টা লড়াই করার একমাত্র উপায় হলো ভোট দেওয়া এবং অন্যদেরও ভোট দিতে উৎসাহিত করা।’ ছায়ানট ভাঙচুরসহ অপ্রীতিকর ঘটনায় উদ্বেগ প্রকাশ করে জনপ্রিয় সংগীতশিল্পী শায়ান চৌধুরী অর্ণব এ সব কথা লিখেছেন ফেসবুকে।
তিনি লিখেছেন, (বৃহস্পতিবার) সিঙ্গাপুরে চিকিৎসাধীন অবস্থায় না ফেরার দেশে চলে গেছেন ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র শরিফ ওসমান হাদি। তার মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়লে একদল বিক্ষুব্ধ জনতা সংবাদমাধ্যমের অফিসসহ ধানমন্ডির ছায়ানট ভবনে হামলা ও ভাঙচুর চালায়।
এদিকে ছায়ানট ভাঙচুরের ঘটনায় একাধিক ছবি, ভিডিও সংবাদমাধ্যমে ভাইরাল হয়েছে। যেখানে দেখা যায়, তানপুরা ভেঙে দুই টুকরো করা হয়েছে, কোথাও ভেঙে ফেলা কার্পেটের উপর পড়ে রয়েছে হারমোনিয়াম। পুড়ে ছারখার করা হয়েছে গানের লাইব্রেরীসহ অন্যান্য বই, নথিপত্র। এমনকি বাদ যায়নি চেয়ার টেবিলও। ১৯৬১ সালে প্রতিষ্ঠিত করা ছায়ানট প্রায় ৬৪ বছর বিভিন্ন ইতিহাস সংগ্রামের সাক্ষী হয়ে আছে।
এদিকে শুক্রবার (১৯ ডিসেম্বর) দুপুর সোয়া ২টায় হামলা ও ভাঙচুর হওয়া ছায়ানট পরিদর্শনে যান অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সংস্কৃতি বিষয়ক উপদেষ্টা মোস্তফা সরোয়ার ফারুকী। তিনি জানিয়েছেন, ছায়ানটে হামলা করা ব্যক্তিদের সিসিটিভি ফুটেজ দেখে প্রত্যেককে শনাক্ত করে তাদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
গত ১২ ডিসেম্বর রাজধানীর পুরানা পল্টনের বক্স কালভার্ট সড়কে চলন্ত মোটরসাইকেল থেকে দুর্বৃত্তরা রিকশায় থাকা ওসমান হাদিকে গুলি করে। ঢাকা-৮ আসনে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে নির্বাচন করার জন্য প্রচারণা চালাচ্ছিলেন তিনি।
ওইদিন মোটরসাইকেলে করে এসে দুইজন তাকে খুব কাছ থেকে গুলি করে পালিয়ে যায়। পরে আশঙ্কাজনক অবস্থায় দ্রুত তাকে ঢাকা মেডিকেলের জরুরি বিভাগে নেয়া হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় জানা যায়, গুলি ওসমান হাদির মাথার ডান দিক থেকে ঢুকে বাম পাশ দিয়ে বের হয়ে গেছে, তবে অংশবিশেষ এখনও তার মস্তিষ্কে রয়েছে।
এ অবস্থার মধ্যেই পরিবারের ইচ্ছায় তাকে রাজধানীর এভারকেয়ার হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়েছিল। সবশেষ সোমবার (১৫ ডিসেম্বর) দুপুরে উন্নত চিকিৎসার জন্য এয়ার অ্যাম্বুলেন্সে করে সিঙ্গাপুরে নেয়া হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় না ফেরার দেশে পাড়ি জমিয়েছেন তিনি।