নিজস্ব প্রতিবেদক :
ননদের ছেলের বিয়েতে অংশ নিতে পরিবারসহ ছিলেন দুবাই। ইনস্টাগ্রামে পোস্ট করেছেন বিয়ের কিছু আনন্দঘন মুহূর্তের ছবি। জাঁকঝমকপূর্ণ আনন্দ আয়োজনের মধ্যে হঠাৎই খবর তিনি আর নেই। চলে গেছেন পরপারে। ভারতের প্রথম নারী সুপারস্টার হিসেবে খ্যাত শ্রীদেবী কাপুর ২০১৮ সালের ২৪ ফেব্রুয়ারি মারা গেছেন। পুরো বলিউডসহ লাখো ভক্তকুল শোকে স্তব্ধ হয়ে যায়।
এই দিনে তাঁকে স্মরণ করছে কালচারাল ইয়ার্ড পরিবার।
জানা যায়, দুবাইয়ের জুমেইরাহ এমিরেটস টাওয়ার হোটেলে তিনি মারা যান। বাথরুমে অচেতন অবস্থায় পাওয়া যায় তাঁকে। ওই রাতেই হোটেল থেকে তাঁকে হাসপাতালে নেয়া হলে চিকিৎসকেরা তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন।
শ্রীদেবী কাপুরের পুরো নাম শ্রী আম্মা ইয়াঙ্গের আয়্যাপান। ১৯৬৩ সালের ১৩ আগস্ট ভারতের তামিলনাড়ুতে জন্মগ্রহণ করেন তিনি। বাবা আয়াপ্পাঁ ইয়াংগার, মা রাজেশ্বরী ইয়াংগার। বাবা ছিলেন একজন আইনজীবী। তার এক বোন ও ২ সৎ ভাই আছে। ১৯৯৬ সালে বিয়ে করেন চলচ্চিত্র প্রযোজক বনি কাপুরকে। তাদের দুই মেয়ে জানভি এবং খুশি।
শ্রীদেবী ১৯৬৯ সালে শিশুশিল্পী হিসেবে ক্যামেরার সামনে দাঁড়ান। ভক্তিমূলক তামিল ছবি তুনাইভান তাঁর প্রথম চলচ্চিত্র। নায়িকা হিসেবে বলিউডে শ্রীদেবীর প্রথম ছবি ষোলা সাওয়ান। ছবিটি মুক্তি পায় ১৯৭৯ সালে। তিনি বলিউড ছাড়াও অসংখ্য তামিল, তেলুগু, মালয়ালম ও কন্নড় চলচ্চিত্রে কাজ করেন। হিন্দি চলচ্চিত্রের প্রথম নারী সুপারস্টার বলা হয় তাঁকে।
১৯৮৩ থেকে ১৯৮৮ সালের মধ্যে জিতেন্দ্রের সঙ্গে জুটি বেঁধে প্রায় ১৬টি চলচ্চিত্রে অভিনয় করেছেন। এর মধ্যে যে সব চলচ্চিত্র হিট হয়েছে সেগুলোর মধ্যে হিম্মতওয়ালা, জানি দোস্ত, জাস্টিস চৌধুরী, মাওয়ালী, আকালমন্দ, বলিদান উল্লেখযোগ্য। শ্রীদেবী রাজেশ খান্নার সাথে জুটি বেঁধেও সফল ছিলেন। এই জুটির উল্লেখযোগ্য চলচ্চিত্র হল নয়া কদম, মকসদ, মাস্টারজি ও নজরানা।
শ্রীদেবীর সাফল্যগাঁথা
১৯৮৬ সালে শ্রীদেবী সর্প বিষয়ক কাল্পনিক চলচ্চিত্র নাগিনায় অভিনয় করে ব্যাপক সাফল্য পান। এতে তিনি ইচ্ছাধারী নাগিন চরিত্রে অভিনয় করেন, যে সাপ থেকে নারীতে পরিণত হতে পারে। এটি ছিল সে বছরের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ আয়কারী চলচ্চিত্র। এ ছবির জন্য বক্স অফিস ইন্ডিয়া তাকে ‘অবিসংবাদিত এক নম্বর’ বলে অভিহিত করে। ইয়াহু! ছবিটিকে অন্যতম সেরা সর্প বিষয়ক কাল্পনিক চলচ্চিত্র বলে উল্লেখ করে। দ্য টাইমস অব ইন্ডিয়া তাদের ‘শীর্ষ ১০ সর্প বিষয়ক হিন্দি চলচ্চিত্র’ তালিকায় নাগিনা ছবিটি অন্তর্ভুক্ত করে।
শ্রীদেবীর ‘মেঁ তেরি দুশমন’ গানের নৃত্য বলিউডের অন্যতম সেরা সর্প নৃত্য বলে উল্লেখ করে দেশি হিট্স। তারা লেখে, এটি শ্রীদেবীর অন্যতম সেরা প্রতীকি নৃত্য… যা এখনো ভক্তদের গায়ের লোম দাঁড় করিয়ে দেয়। আইডিভা লিখে, এটি চলচ্চিত্র কিংবদন্তীর একটি উদাহরণ। নাগিনা ছাড়াও ১৯৮৬ সালে শ্রীদেবী অভিনীত সুভাষ ঘাই পরিচালিত কর্ম এবং ফিরোজ খান পরিচালিত জানবাজ চলচ্চিত্র বক্স অফিসে হিট হয়। সিএনএন-আইবিএন বলিউড ব্লকবাস্টার অনুসারে, শ্রীদেবীর জনপ্রিয়তা এতই বৃদ্ধি পেয়েছিল যে জানবাজ চলচ্চিত্রে অতিথি চরিত্রে অভিনয় করেও তিনি ছবিটির প্রধান চরিত্রে অভিনেত্রী ডিম্পল কাপাডিয়াকেও ছাড়িয়ে যান।
তাঁর অভিনীত মিস্টার ইন্ডিয়া চলচ্চিত্র সেই বছরের অন্যতম আয়কারী ছবি। ছবিটির ‘হাওয়া হাওয়াই’ গানের নৃত্যটিকে দ্য টাইমস অব ইন্ডিয়া শ্রীদেবীর অন্যতম স্মরণীয় নৃত্য বলে উল্লেখ করে। হিন্দুস্তান টাইমসের ‘হিন্দি চলচ্চিত্রের সেরা ১০ দেশাত্মবোধক চলচ্চিত্র’ তালিকায়ও জায়গা করে নেয় ছবিটি। ফিল্মফেয়ার এই গানে শ্রীদেবীকে ‘নীল শাড়িতে সত্যিকারের দেবীর মত লাগছিল’ বলে উল্লেখ করে। রেডিফ তাদের ‘সেরা ২৫ শাড়ি দৃশ্য’ তালিকায় এই গানটিকে অন্তর্ভুক্ত করে এবং শ্রীদেবীর ‘মাথা থেকে পা পর্যন্ত ঢেকে রেখেও নিজেকে যৌন আবেদনময়ী দেখানোর সামর্থ্যের’ প্রশংসা করে।
২০১৩ সালে ভারত সরকার তাঁকে দেশটির চতুর্থ সর্বোচ্চ বেসামরিক সম্মাননা পদ্মশ্রী পদকে ভূষিত করে। এছাড়া তামিল নাড়ু, অন্ধ্র প্রদেশ ও কেরালা রাজ্য সরকারের পক্ষ থেকে সম্মানসূচক পুরস্কার লাভ করেন তিনি। ভারতীয় চলচ্চিত্রের শতবর্ষপূর্তি উপলক্ষ্যে ২০১৩ সালে সিএনএন-আইবিএনের এক জরিপে তিনি ‘১০০ বছরে ভারতের সেরা অভিনেত্রী’ হিসেবে নির্বাচিত হন।