কালচারাল ইয়ার্ড ডেস্ক:
শিশুরা এই পৃথিবীকে কীভাবে অনুভব করে—তাদের ভয়, বিশ্বাস ও শক্তির কল্পজগৎ—সেই অভিজ্ঞতাকে মঞ্চে তুলে ধরছে নাটক ‘গার্ডিয়ানস অফ দ্য গডস’।
প্রাচ্যনাট থিয়েটার ও সুইডেনের বিখ্যাত শিশু থিয়েটার দল উঙ্গা ক্লারার যৌথ প্রযোজনায় নির্মিত নাটকটি শনিবার বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমির স্টুডিও থিয়েটার হলে প্রদর্শিত হবে। এদিন নাটকটির দুটি শো অনুষ্ঠিত হবে সন্ধ্যা ৬টা এবং সন্ধ্যা সাড়ে ৭টায়।
নাটকটির রচনা করেছেন সুইডিশ নাট্যকার এরিক উডেনবার্গ। নির্দেশনায় রয়েছেন গুস্তাভ দাইনফ। বাংলা রূপান্তর করেছেন তাসনুভা রুবাইয়াত।
নাটকের কাহিনিতে শিশুদের অভ্যন্তরীণ জগত ও অভিজ্ঞতাকে প্রাপ্তবয়স্ক চরিত্রের মধ্য দিয়ে প্রকাশ করা হয়েছে। এতে ‘এ’ ও ‘বি’ নামের দুই কেন্দ্রীয় চরিত্র রয়েছে, যারা প্রয়োজনে রূপ পরিবর্তন করতে পারে এবং যাদের রয়েছে অতিপ্রাকৃত ক্ষমতা। এই ক্ষমতার ভেতর দিয়েই উন্মোচিত হয় শিশু ও প্রাপ্তবয়স্কদের সম্পর্কের জটিলতা—যেখানে বড়রা কখনো নিরাপত্তার প্রতীক, আবার কখনো ভয়ের উৎস।
নাটকটি শিশুদের একটি সার্বজনীন বাস্তবতার কথা বলে—এই পৃথিবীর সব শিশুই এমন এক সমাজে বাস করে, যা মূলত প্রাপ্তবয়স্কদের নিয়ন্ত্রণে। সেই নিয়ন্ত্রিত বাস্তবতায় শিশুরা কীভাবে ভয়, বিশ্বাস ও প্রতিবাদের ভেতর দিয়ে এগিয়ে যায় এবং নিজেদের শক্তি আবিষ্কার করে—তা-ই নাটকের মূল অন্বেষণ।
‘দ্য চাইল্ডহুড প্রজেক্ট’-এর অংশ
‘গার্ডিয়ানস অফ দ্য গডস’ আন্তর্জাতিক উদ্যোগ ‘দ্য চাইল্ডহুড প্রজেক্ট’-এর অংশ। এই প্রকল্পের উদ্দেশ্য বিশ্বজুড়ে শিশু ও তরুণদের জন্য সাংস্কৃতিক পরিসরকে আরও বিস্তৃত ও সমৃদ্ধ করা। ২০২৫ সালে নাটকটি পাঁচ মহাদেশের ২৫টি দেশে মঞ্চস্থ হয়েছে। এর বিশ্ব প্রিমিয়ার হয় গত ৩০ মে তুরস্কের দিয়ারবাকর শহরে। পরবর্তীতে চলতি বছরের সেপ্টেম্বর মাসে বাংলাদেশে নাটকটির প্রিমিয়ার অনুষ্ঠিত হয়।
নাটকটি নির্মিত হয়েছে পাঁচ মহাদেশের ১১টি দেশের শিশু ও প্রাপ্তবয়স্কদের সাক্ষাৎকারের ভিত্তিতে।
নাটক প্রসঙ্গে পরিচালক গুস্তাভ দাইনফ বলেন,
“এই প্রযোজনাটি বিশ্বজুড়ে শিশুদের কণ্ঠস্বরকে মঞ্চে তুলে ধরে। দর্শকদের জন্য এটি এক গভীর ও শক্তিশালী অভিজ্ঞতা হয়ে উঠতে পারে।”
নাট্যকার এরিক উডেনবার্গ বলেন,
“শিশুরা কীভাবে প্রাপ্তবয়স্কদের জগতে মানিয়ে নেয়—এটি একটি সার্বজনীন প্রশ্ন। এই প্রশ্নের মাধ্যমে বিশ্বের নানা প্রান্তের মানুষকে একসূত্রে যুক্ত করতে পারা আমার জন্য অত্যন্ত অর্থবহ।”
এই প্রযোজনায় বাংলাদেশ থেকে অভিনেতা ও উপদেষ্টা হিসেবে যুক্ত আছেন তৌফিকুল ইসলাম ইমন। তিনি জানান,
“এটি কেবল একটি নাটক নয়, বরং একটি বৈশ্বিক অভিযাত্রার অংশ। বিভিন্ন দেশের শিল্পীদের সঙ্গে কাজ করাটা প্রতিটি মহড়াকেই করে তুলেছে সাংস্কৃতিক বিনিময়ের এক অনন্য অভিজ্ঞতা।”
নাটকে অভিনয় করছেন তৌফিকুল ইসলাম ইমন, নাহিদা আখতার আঁখি ও ডায়ানা মেরিলিন। কোরিওগ্রাফিতে আছেন ডায়ানা মেরিলিন, মঞ্চ ও পোশাক পরিকল্পনা করেছেন দেনিজ গোল, আর সংগীত পরিচালনা করেছেন তাইজা নেইং।