কালচারাল ইয়ার্ড ডেস্ক:
নব্বই দশকের টেলিভিশন দুনিয়ার জনপ্রিয় কিছু সিরিজ প্রজন্মের কল্পনাশক্তিকে নাড়িয়ে দিয়েছিল। তাদের শীর্ষ সারিতেই ছিল সায়েন্স ফিকশন-থ্রিলার ঘরানার কিংবদন্তি দ্য এক্স ফাইলস। অতিপ্রাকৃতিক রহস্য, এলিয়েন তত্ত্ব, ষড়যন্ত্র আর রাষ্ট্রীয় গোপনীয়তার স্তর উন্মোচনের মধ্য দিয়ে সিরিজটি হয়ে উঠেছিল এক সাংস্কৃতিক আইকন। এবার সেই ক্লাসিক ফিরছে নতুন রূপে—সময়ের সঙ্গে তাল মিলিয়ে, নতুন ভাষ্যে।
ওটিটি প্ল্যাটফর্ম হুলু ঘোষণা দিয়েছে, তারা সিরিজটিকে রিবুট আকারে ফিরিয়ে আনছে। সমসাময়িক হলিউডে আলোচিত নির্মাতা রায়ান কুগলার পাইলট পর্ব লিখবেন ও পরিচালনা করবেন—যা প্রকল্পটির গুরুত্ব ও উচ্চাকাঙ্ক্ষার ইঙ্গিত দেয়।
নতুন সিরিজে এফবিআই এজেন্টদের একজনের ভূমিকায় থাকছেন ড্যানিয়েল ডেডওয়াইলার। শক্তিশালী অভিনয়ের জন্য ইতোমধ্যেই সমালোচকদের নজর কেড়েছেন তিনি। বিশেষ করে দ্যা পিয়ানো লেসেন এবং হররধর্মী দ্যা ওম্যান ইন দ্যা ইয়ার্ড-এ তাঁর অভিনয় তাকে সমসাময়িক হলিউডে গুরুত্বপূর্ণ অবস্থানে নিয়ে গেছে।
প্রযোজনা দলে থাকছেন জেনিফার ইয়েল। আর মূল সিরিজের স্রষ্টা ক্রিস কার্টার যুক্ত থাকছেন নির্বাহী প্রযোজক হিসেবে—যা পুরনো ও নতুনের মধ্যে একটি সেতুবন্ধন তৈরি করবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
এক কিংবদন্তির যাত্রা
১৯৯৩ সালে ফক্স নেটওয়ার্কে যাত্রা শুরু করে সিরিজটি। অতিপ্রাকৃতিক, অলৌকিক ও এলিয়েন-সম্পর্কিত অদ্ভুত ঘটনার তদন্তে নামা দুই এফবিআই এজেন্ট—ডানা স্কালি ও ফক্স মল্ডারের অনুসন্ধানকে কেন্দ্র করেই আবর্তিত হয়েছে কাহিনি।
২০০২ সাল পর্যন্ত টানা নয় মৌসুম প্রচারিত হওয়ার পর ২০১৬ ও ২০১৮ সালে আসে দশম ও একাদশ মৌসুম। বিশ্বের একশোরও বেশি দেশে সম্প্রচারিত এই সিরিজ টিভি ইতিহাসে নিজের অবস্থান পোক্ত করে নেয়।
সিরিজটির জনপ্রিয়তা থেকেই নির্মিত হয় দুটি চলচ্চিত্র—
দ্য এক্স ফাইলস: ফাইট দ্য ফিউচার (১৯৯৮)
দ্য এক্স ফাইলস: আই ওয়ান্ট টু বিলিভ (২০০৮)
স্কালি ও মল্ডার চরিত্রে অভিনয় করে Gillian Anderson ও David Duchovny বিশ্বজুড়ে তারকাখ্যাতি পান।
নতুন গল্প, পুরনো ফাইল
রিবুট সংস্করণে দেখানো হবে—এফবিআইয়ের বন্ধ হয়ে যাওয়া ‘এক্স ফাইলস’ বিভাগের পুরনো রহস্যময় কেসগুলো আবারও তদন্ত করবেন দুই এজেন্ট। তবে প্রশ্ন হচ্ছে, ডিজিটাল নজরদারি, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা আর তথ্যযুদ্ধের এই সময়ে অতিপ্রাকৃতিক রহস্য কী নতুন রূপ নেবে?
নব্বইয়ের দর্শকদের জন্য এটি নস্টালজিয়ার প্রত্যাবর্তন, আর নতুন প্রজন্মের জন্য এক অজানা রহস্যভুবনের দরজা। সব মিলিয়ে, দ্য এক্স ফাইলসের এই প্রত্যাবর্তন শুধু একটি সিরিজের রিবুট নয়—এটি টেলিভিশনের এক যুগের পুনর্জন্ম।